প্রধান মেনু

সিটি করপোরেশনের মহিলা কাউন্সিলরদের বঞ্চিত করা হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট হলো কিছুদিন আগে। এখানে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে সাধারণ কাউন্সিলর ও ৩ টি ওয়ার্ডে একজন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সরাসরি জনগণের ভোটে। অথচ যেকোনো বাজেট বা জনগণের জন্য প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে মহিলা কাউন্সিলরগণ তিনগুণতো নয়; বরং সাধারণ কাউন্সিলরদের চাইতেও অনেক অংশে কম সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হন। বলাবাহুল্য, (এখানে সুযোগ সুবিধা বলতে জনগণের জন্য প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার কথায় বলা হচ্ছে।) জানা গেছে, এমনিভাবে তৈরি নাকি সিটি কর্পোরেশন গেজেট ২০০৮, কিন্তু এ কেমন অমানবিকতা! যেখানে একজন মহিলা মানুষ, এরা প্রাণপণ চেষ্টা ও শ্রমের বিনিময়ে বৃহত্তর ৩ টি ওয়ার্ড ঘুরে নির্বাচনসহ সেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম করে থাকেন। অথচ তাদেরকে নামমাত্র সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। যা কোন দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন সচেতন মহল সহ সর্ব সাধারণ মানুষেরা। এদিকে, করোনার এই মহা ক্রান্তিকালেও তাদেরকে দেয়া হচ্ছে খুবই নূন্যতম ত্রাণসামগ্রী। জানা গেছে, এ পর্যন্ত এই মহিলা কাউন্সিলরেরা একবারই বরাদ্ধ পেয়েছেন মাত্র দুই টন চাল ও আলু কিনার জন্য ১৬ হাজার টাকা। যা তিনটি ওয়ার্ডের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য খুবই অপ্রতুল। আর এর বিপরীতে পুরুষ কাউন্সিলরা পেয়েছেন কমপক্ষে তিনবার টনকে টন চাল, অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী সহ লক্ষ লক্ষ টাকা। তাই এমন অসামঞ্জস্য বাস্তবতার ভিত্তিতে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মহিলা কাউন্সিলর চায়- ২০০৮ সিটি কর্পোরেশনের গেজেটটি পরিবর্তন করা হোক। যদিও তারা সাধারণ কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে নয়। এসব ব্যাপারে তারা বলেন, সাধারণ কাউন্সিলরেরা যেভাবে তাদের প্রাপ্ত অধিকার গেজেটে রয়েছে, তা অক্ষুন্ন রেখেই তাদের চাইতে বেশি না হলেও মহিলা কাউন্সিলরদের গেজেটে উল্লেখিত সুযোগ-সুবিধা কিছুটা হলেও বাড়ানো হোক। কেননা, তাদের ভাষ্যমতে- তারা একটি নয় বরং তিনটি ওয়ার্ডে কঠিন পরিশ্রম করেন, সরাসরি জনগণের সুখ-দুঃখের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। অথচ কোনো দুঃসময়ে যখন তারা মানুষকে সেভাবে সেবা দিতে পারেন না, তখন তারা তাদের কাছে বিব্রত ও হাস্যরসের পাত্র হয়ে যায়। তাই এমনই বাস্তবতার প্রয়োজনেই উক্ত গেজেটটি পরিবর্তন চায়, সিটি কর্পোরেশনের অনেক মহিলা কাউন্সিলর। এদিকে, এই করোনার মহা ক্রান্তিকালে আপাতত এই বাজেটের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে, মহিলা কাউন্সিলরদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ আবেদন, যে তাদেরকে বিশেষভাবে হলেও ত্রান বরাদ্ধ দিয়ে গরিব-দুঃখী, করোনার কঠিন পিস্টনে না খেতে খাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হোক।