প্রধান মেনু

রায়পুরে মাতৃছায়া হাসপাতালে জীবিত গর্ভজাত সন্তানকে মৃত ঘোষণা অভিযোগ

আবদুল কাদের রায়পুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের মাতৃছায়া হাসপাতাল (প্রাঃ) এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে জীবিত  গর্ভজাত সন্তানকে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে মৃত ঘোষণা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রায়পুর ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির মিঝি অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, তার ভাইয়ের মেয়ে আমেনা আক্তার (১৮) গর্ভধারন করলে প্রথম থেকেই মাতৃছায়া হাসপাতালের নিয়মিত গাইনী চিকিৎসক ডাঃ শামীমা নাসরিনের

চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ নিয়ে আসছেন। গর্ভকালীন ৮ সপ্তাহের সময় গত ২ এপ্রিল সোমবার ডাঃ শামীমা নাসরিন আমেনার গর্ভজাত সন্তানের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য বললে রোগীর স্বজনরা ওই হাসপাতালের ডায়াগনষ্টিক ইউনিটে গিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। ওই রিপোর্টে আমেনার গর্ভজাত সন্তানটিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। রিপোর্টটি ডাঃ শামীমা নাসরিনকে দেখালে তিনি দ্রুত ডিএনসি (এবরশন) করার  পরামর্শ দেন। আমেনা ডিএনসি করার বিষেয়ে অনিহা প্রকাশ করলে ডাক্তার তখন মৃত বাচ্চাটিকে গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বেশ কিছু খাবার ঔষধ দেয়। রোগীর অভিভাবকগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় এ বিষয়ে অধিক নিশ্চিত হওয়ার জন্য ৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে গিয়ে ডাঃ ফেরদৌস আরা বানু কাকলীর স্মরনাপন্ন হলে তিনি আবারো আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন।

ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে বলা হয় আমেনার গর্ভের ৮ সপ্তাহের বাচ্চাটি নিরাপদ এবং সুস্থ্য আছে। উল্লেখ্য, রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রায় বছরখানেক ধরে চাকুরীরত ডাঃ শামীমা নাসরিন প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত্র ৯/১০ পর্যন্ত ওই প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন এবং স্থানীয় প্রায় সবকয়টি প্রাইভেট হাসপাতালেই কলে গিয়ে সিজার অপারেশন করেন। গত বছর জুলাই মাসে তিনি রায়পুর পৌর শহরস্থ মেঘনা হাসপাতালে এক গর্ভবতীকে তার গর্ভজাত শিশুটির ডেলিভারীর তারিখের প্রায় ৩মাস পূর্বে সিজার করে দেখেন শিশুটি পরিপক্ক হওয়ার পূর্বেই ভূমিষ্ট হওয়ায় শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে শিশুটির অভিভাবকরা দ্রুত এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে জরুরীতে বেশ কয়েকদিন ইনক্রিবেটরে রেখে শিশুটিকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন।

এ বিয়য়ে জানতে চাইলে ডাঃ শামীমা নাসরিন বলেন, আমি আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী রোগীর নিরাপত্তার জন্য ডিএনসি (এবরশন) করার পরামর্শ দেই। রোগী ও তার স্বজনরা ডিএনসি করার বিষেয়ে অনিহা প্রকাশ করলে বিকল্প হিসেবে তখন মৃত বাচ্চাটি গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কিছু খাবার ঔষধ লিখে প্রেসক্রিপশন দেই। ভুল রিপোর্টের জন্য আমি দায়ী নই।

মাতৃছায়া হাসপাতাল (প্রাঃ) এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পরিচালক তুহিন চৌধুরী বলেন, আমাদের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ আল মামুন আল্ট্রাসনোগ্রাম করে গর্ভজাত শিশুটি মৃত বলে যে রিপোর্ট দিয়েছে তার জন্য আমি তাকে চাকুরীচ্যুত করেছি এবং বিষয়টি সিভিল সার্জনকে অবগত করিয়েছি। সিভিল সার্জন আজ সোমবার আমাদের কাছে জমাকৃত ওই মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ আল মামুন এর কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলেছেন।

সিভিল সার্জন ডাঃ আল মামুনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আর কি শাস্থিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তা উনিই নির্ধারণ করবেন। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি অত্যান্ত স্পর্শকাতর ও দুঃখজনক। প্রঙ্গতঃ রায়পুর শহরে অধিক লাভজনক হওয়ায় ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। যার কোনটিই সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম-নীতি মেনে করা হয়নি।

এদের নেই পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি, মানসম্মত অপারেশন থিয়েটার, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার, বিএসসি বা ডিপ্লোমাধারী নার্স,
টেকনেশিয়ান ও প্যাথলজিশিয়ান। তবে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় ভূঁয়া কাগজ-পত্র জমা দেয়া আছে সকলেরই। অদৃশ্য শক্তিবলে আইনকে তোয়াক্কা না করে চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসাসেবার নামে ব্যবসা। রোগীরা হচ্ছে প্রতারিত। প্রায়শই মৃত্যু সহ নানান অঙ্গহানীর বা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ পাওয়া য়ায়।

এসব প্রাইভেট হাসপাতাল সমূহের মূল ব্যবসাই হোল সিজার অপারেশন।সচেতন মহল ও রোগীর স্বজনরা এসব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহের কড়া নজরদারী ও হস্থক্ষেপ কামনা করছেন।