প্রধান মেনু

বিবাহিত স্ত্রী কে ফেলে কাতার প্রবাসীর পলায়নে, স্ত্রীর অনশন

শাহজাহান আলী, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে কোর্ট ম্যারেজ করলেও স্বামীর পরিবার মেনে না নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ায় নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে কাতার প্রবাসী এক যুবকের কলেজ পড়-য়া স্ত্রী অনশন করছে শশুর বাড়ির সামনে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ মার্চ রবিবার সকাল ১০ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর বাড়াইশাল পাড়ায়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনশনরত বাড়াইশালপাড়ার গোপাল চন্দ্র দাস’র কন্যা ও কামারপুকুর ডিগ্রী কলেজের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষার্থী পারুল রানী দাস (২৩) উপস্থিত সাংবাদিকদের জানায়, প্রতিবেশী ওয়েল্ডিং দোকান ব্যবসায়ী নিবারণ চন্দ্র দাস এর ছেলে স্বদেশ চন্দ্র দাস সাথে দীর্ঘ দিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক। তারই সূত্র ধরে গত ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে কোর্ট ম্যারেজ করে তারা।

কিন্তু স্বদেশ চন্দ্র বেকার থাকায় সেসময় তাদের বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখে স্বদেশ এর পরামর্শে। কিন্তু বিয়ের ৫ মাস পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে স্বদেশ চন্দ্র অনেকটা গোপনেই চলে যায় বিদেশে (কাতার)। দীর্ঘ দিন সে পারুলের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করেনি। এমতাবস্থায় পারুল অপেক্ষায় থাকে স্বদেশ এর প্রত্যাবর্তনের। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে স্বদেশ এক মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসলে পারুল স্বদেশ এর সাথে দেখা করলে সে পরিবারকে বিয়ের বিষয়টি জানিয়ে রাজী করার পর তাকে ঘরে তুলবে বলে আশ্বস্ত করে।

কিন্তু হঠাৎ গত ১৬ রাতে স্বদেশ পালিয়ে যায় বাড়ি থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে কাতার যাওয়ার জন্য ঢাকা চলে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য বাধ্য হয়ে পারুল তার পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা এ ব্যাপারে স্বদেশ এর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু তারা ছেলের স্ত্রী হিসেবে পারুল কে কোনদিনই মেনে নেবেনা বলে জানায়। এতে পারুল চরম বিপাকে পড়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে ১৭ মার্চ রবিবার সকাল ১০ টায় স্বদেশ এর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেয়।

এসময় স্বদেশ এর পরিবারের লোকজন পারুলকে বাড়ি থেকে শারীরিক নির্যাতন করে বের করে দেয়। বাধ্য হয়ে পারুল তার স্বামীকে উপস্থিত করার জন্য বার বার বলা সত্বেও বাড়ির লোকজন কোন ভ্রুক্ষেপ না করায় শশুর বাড়ির সামনে অনশন শুরু করে। এ সম্পর্ক কোনভাবেই মেনে নেয়া হবেনা বলে তাকে বাড়ির সামনে থেকে তাড়িয়ে দিতে নানা রকম ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। কিন্তু পারুল অনঢ় অবস্থান করায় শেষ পর্যন্ত ঢাকা থেকে স্বদেশ চন্দ্র দাস ফেরত আসছে বলে জানানো হয়। কিন্তু তারপরও স্বদেশ না আসা পর্যন্ত অনশন করবে বলে জানায় পারুল। এ ব্যাপারে স্বদেশ এর কাকা অনিল চন্দ্র দাস বলেন, স্বদেশ ফিরে আসলেই প্রকৃত সত্য জানা যাবে। যদি তাদের বিয়ে হয়ে থাকে তাহলে মেনে নেয়াই ভালো হবে। তা না হলে স্বদেশের উপরই বর্তাবে সব দায়।