প্রধান মেনু

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী বাণী ও রাষ্ট্রপতির বাণী

প্রধানমন্ত্রীর বাণীঃপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৯তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আমি বাহিনীর সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মহান ভাষা আন্দোলনের এ মাসে আমি ভাষা শহিদ আনসার কমান্ডার আব্দুল জব্বারসহ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে এ বাহিনীর যে সকল সদস্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তাঁদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকার প্রধানকে ১২ জন বীর আনসার সদস্য ‘গার্ড অভ্ধসঢ়; অনার’ প্রদান করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রারম্ভে এ বাহিনীর চল্লিশ হাজার রাইফেল ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অস্ত্র-শক্তি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আনসার বাহিনী দেশের জনগণ এবং সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ বাহিনীর সদস্য-সদস্যাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। দেশের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন ছাড়াও নিয়মিতভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ বাহিনীর রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। বাহিনীর ব্যাটালিয়ন আনসার এবং সাধারণ আনসার সদস্যরা সারাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় জননিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে। প্রায় ৬১ লক্ষ সদস্য-সদস্যার এ বাহিনীর তৃণমূল পর্যায়ের অর্ধেক সদস্যই নারী। এ বাহিনী তৃণমূল পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ ধারাবাহিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ হতে প্রবেশ করেছে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সাফল্যের অন্যতম অংশীদার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বৃহৎ ও সুশৃঙ্খল এ বাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি দায়িত্বরত এ বাহিনীর নিহত, আহত সদস্য এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৯তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু,বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

রাষ্ট্রপতির বাণীঃরাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ৩৯তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আমি বাহিনীর সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ১৯৪৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আনসার বাহিনী প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর সদস্যদের রয়েছে বিপুল অবদান। আমি ৫২’র ভাষা আন্দোলনে শহিদ আনসার কমান্ডার আব্দুল জব্বার, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ৬৭০ জন বীর আনসারসদস্যসহ বিভিন্ন সময়ে যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। দেশের সর্ববৃহৎ শৃঙ্খলা বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা, জননিরাপত্তা বিধানসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও যুব ও নারী সমাজকে বিভিন্ন পেশায় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষমানবসম্পদ তৈরি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। আমি আশা করি নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আনসার সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। ‘শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন, নিরাপত্তায় সর্বত্র আমরা’-এ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিটি সদস্য মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সেবার মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি গঠনে অব্যাহত প্রয়াস চালাবে- এ প্রত্যাশা করি। আমি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সকল কার্যক্রমের সফলতা কামনা করি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক