প্রধান মেনু

দরিদ্র হয়ে জন্ম নেওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু দরিদ্র হয়ে বেঁচে থাকা অভিশাপ — অর্থমন্ত্রী

জেনেভা (সুইজারল্যান্ড), ২ সেপ্টেম্বর : এলডিসি বা স্বল্পোন্নতের তকমা কখনোই সম্মানের হতে পারে না। দরিদ্র হয়ে জন্ম নেওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু দরিদ্র হয়ে বেঁচে থাকা এবং মারা যাওয়া অভিশাপ। কেননা আমাদের রয়েছে দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা। জন্মগতভাবে আমরা সবাই সমান নই, কিন্তু আমাদের অবস্থার উন্নতির জন্য রয়েছে এক বা ভিন্ন ভিন্ন রকমের সুযোগ ও সক্ষমতা।

আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই, বিশেষ করে ২০০ বছর পূর্বেও দেখি, আজকের উন্নত দেশগুলো বর্তমান অবস্থাতে ছিল না। তাদের এখনকার সুযোগ সুবিধাগুলো তখন তাদের ছিল না। তখন দরিদ্র এবং দরিদ্র নয়  এমন অবস্থা ছিল ৮০ এবং ২০ অনুপাতে, আর এখন এটি সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থায় বিরাজমান। কেউ যদি তার পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা না করে, তাহলে কেউই তাকে দারিদ্র্যতা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে না। আর যদি সত্যিই অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়, অবশ্যই সফলতা আসবে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আজ সুজাইজার‌ল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে UNLDC-5 সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য উচ্চপর্যায়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল পর্যালোচনা সভায় যোগ দিয়ে সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, পৃথিবীর বিখ্যাত স্বনামধন্য নেতা বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন- কারো মুখাপেক্ষী হয়ে নয় বরং নিজেদেরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে উন্নতি করতে হয়। আমাদের জাতির পিতার রক্তের সুযোগ্য উত্তরাধিকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই নীতিতে বিশ্বাস করেন। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ গত এক দশকে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ইস্তাম্বুল কর্মসূচির মেয়াদ (২০১১-২০২০) শেষেও ২০২০ সালের মধ্যে এলডিসির সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। মাত্র চারটি দেশ উত্তরণ লাভ করেছে এবং বাকি পাঁচটি উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

সকল প্রতিনিধিকে উদাত্ত আহ্বান করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক পরিবর্তনে সকলকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সকল জাতিতে জাতিতে বিভেদ নিরসনে সকল উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশকে পারস্পরিক আন্তরিক সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে । কাউকে পেছনে ফেলে নয়, সকলকে একসাথে নিয়েই উপরে উঠতে হবে। অর্থমন্ত্রী ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনকে ফলপ্রসূ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় মালাউয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Eisenhower Mkaka, আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও হাই রিপ্রেজেনটেটিভ এবং জাতিসংঘের ৫ম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব Courtenay Rattray এবং আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ESCAP এর নির্বাহী সচিব Armida Salsiah Alisjahbana সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ  বক্তব্য প্রদান করেন। সকলেই ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনকে সার্থক করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, কোভিড-১৯ মহামারির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকি মোকাবেলায় একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।