প্রধান মেনু

ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় ব্যাবসায়ী কে পিটিয়ে আহত 

মোঃমাহফুজুর রহমান বিপ্লব,ফরিদপুর প্রতিনিধ: ফরিদপুর শহরের নিউ মার্কেটে শপিং করতে আসা ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় সরকারি তিতুমীর বাজার (নিউ মার্কেট) কমিটির সহ সভাপতি ব্যবসায়ীক নেতা আলীপুর নিবাসী মোঃ গোলাম নবী (৪৯)-কে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। তিনি বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন। ইভটিজিং এর শিকার ১৪ বছর বয়সি কিশোরী লিমা (ছদ্ম নাম) জানান, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নিউ মার্কেটের মানিক ষ্টোর ও রিমন ষ্টোরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মানিক স্টোরের এক কর্মচারী আমার শরিরে একটি মার্বেল ছুড়ে মারে, তখন বিষয়টি আমি আমার ভাইকে জানালে সে বেঙ্গল ক্লথ স্টোরের রিমন নামে একজনকে জানালে সে এসে ঐ কর্মচারীকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে তারা ক্ষিপ্ত হয় এবং রিমনকে মারতে যায়।
এ সময় রিমনের পিতা এগিয়ে এলে কথা কাটাকাটি হওয়ার এক পর্যায়ে ১৫/২০ রিমনের পিতাকে মারতে শুরু করে এবং মেরে তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে ও রক্তাক্ত করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যবসায়ী গোলাম নবী জানান, ইভটিজিং এর বিষয়টি জানতে পেরে আমি এগিয়ে গেলে আমার সাথে কথা কাটাকাটি হয় তখন মানিক স্টোরের মালিক মীর আঃ রহিম বাদলকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন ভাই এসব বিষয়ে কান দিয়েন না, আপনি আপনার কাজ করেন। এ সময় মানিক ষ্টোরের মালিক মীর আব্দুর রহিম বাদলের ভাই মানিক, দীপু, টিপু, বোন জামাই রিমন ও রিমন ষ্টোরের কর্মচারীসহ ১৫/২০ জন আমার উপর বর্বর হামলা চালায় এবং আমাকে এলোপাথারি মারতে শুরু করে। মেরে আমাকে রক্তাক্ত করে এবং আমার পরনের কাপড়ও ছিঁড়ে ফেলে। আমার ছেলে রিমন বাধা দিতে এলে তাকেও মেরে আহত করা হয়। এক পর্যায়ে আমি জীবন বাঁচাতে মার্কেট থেকে দৌড়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় যাই। থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি আরও জানান, তারা প্রায়ই শপিং করতে আসা কিশোরী, তরুনীদের বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করে থাকে।
শহরের আলোচিত দুই ভাই বরকত – রুবেলের আত্মীয় হওয়ায় কেউ এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পেতো না। ইতিপুর্বে তাদের বিষয়ে রুবেলের কাছে জানাতে গেলে সে পায়ের সেন্ডেল দিয়ে মারতে উদ্যত হয়। তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার নেপথ্যে মীর আব্দুর রহিম বাদলের মদদ রয়েছে। বরকত – রুবেলের আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ওরা ব্যবসার অন্তরালে ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও বিদেশী মদের ব্যবসা করে আসছে। সেসব বিষয়েও আমরা বার বার প্রতিবাদ করেছি। ওরা আমার পুত্র আব্দুল আলী ইমনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানার অভিযোগ দেওয়া হবে। আমি এর সঠিক বিচার দাবী করছি।
সরকারি তিতুমীর বাজার (নিউ মার্কেট) কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবু বলেন, ঘটনাটি জঘন্য এবং নিন্দনীয়। আমরা আমাদের ব্যবসায়ীক কমিটি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তি দাবী করছি। তারা ইতিপুর্বেও এমন অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের নিয়ে প্রায়ই সালিশ করতে হয়। দু তিন বছর পুর্বে চরভদ্রাসন উপজেলার এক চেয়ারম্যানের ছেলেকে মারার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও দিয়েছিল বাদল ও তার ভাইয়েরা। এ বিষয়ে মার্কেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ শামীম বলেন, ঘটনাটি আমাদের ব্যবসায়ীদের আহত করেছে।
আমরা সুশৃঙ্খল ভাবে আমাদার ব্যবসা পরিচালনা করতে চাই কিন্তু কিছু অসাধু ও সান্ত্রাসী ব্যবসায়ীর করানো নিউ মার্কেটের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। অভিযুক্ত দোকান ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে এই রকম আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে। সেসব বিষয়ে সালিস, বৈঠকও অনেক হয়েছে। একবার পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানাও দিয়েছে। গত বছর রিমন ষ্টোরের কর্মচারীরা এ ধরনের ইভটিজিং এর ঘটনা ঘটালে ফরিদপুরের র‌্যাব-৮ সদস্যরা তাদের আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অভিযোগের বিষয়ে মীর আব্দুর রহিম বাদলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। ঘটনাটি অনাকাঙ্খীত, দুঃখজনক। এমন একটি হামলার ঘটনায় সত্যি লজ্জা পাচ্ছি।
গোলাম নবী আমার ভাই, এ বিষয়ে তিনে যা বলবেন তা সঠিক। ব্যবসার অন্তরালে মাদক বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সত্য নয়। গত ৩০ বছর যাবৎ আমরা সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছি। আমাদের প্রতিপক্ষ এসব মিথ্যা রটাচ্ছে। তবে এই ঘটনার সাথে আমার পরিবারের লোক জড়িত থাকলে অবশ্যই আমিও এর শাস্তি চাই। ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদ আলম বলেন, এবিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।